মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে জন্মাষ্টমী ও নন্দোৎসব, ১৩১ শিশুকৃষ্ণ ও ১৩১ যশোদার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ও নন্দোৎসব উপলক্ষে উৎসবের আবহে মেতে উঠল মন্মথপুর প্রণব মন্দির চত্বর।
বিশ্ববন্দিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের গৌরবময় ১৩১তম শুভ আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে এবার আয়োজন করা হয় এক অভিনব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রার।
এই শোভাযাত্রায় ১৩১ জন শিশুকে শ্রীকৃষ্ণের সাজে এবং ১৩১ জন মাকে মা যশোদার সাজে সুসজ্জিত করা হয়।
স্বামী প্রণবানন্দ মাতৃ সুরক্ষা মঞ্চ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শোভাযাত্রাটি এসে পৌঁছয় মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে।
শোভাযাত্রায় ছিল হরিনাম সংকীর্তন। পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের শৈশবের বিভিন্ন লীলাকে তুলে ধরা হয় নানা সাজসজ্জা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে। মন্মথপুর প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক খুদে পড়ুয়া কৃষ্ণের সাজে অংশ নেয় এই অনুষ্ঠানে।
শোভাযাত্রার রাস্তার দু'ধারে ভিড় জমে যায় সাধারণ মানুষের। বিভিন্ন জায়গায় ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
কোথাও মায়েরা কৃষ্ণরূপী শিশুদের ননী খাওয়ানোর চেষ্টা করেন, আবার কোথাও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জল ও বাতাসা। চার কিলোমিটার পথজুড়ে ভক্তি, সংকীর্তন ও উৎসবের আবহে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের হাতে ভক্তদের পক্ষ থেকে জন্মাষ্টমীর প্রসাদ তুলে দেওয়া হয়।
অবশেষে মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে পৌঁছে গুরু মহারাজের সমবেত আরতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। আরতি শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য, এই ধরনের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিশুদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মায়েরা তাঁদের সন্তানদের কৃষ্ণের সাজে সাজিয়ে প্রার্থনা করেন, আগামী দিনে শ্রীকৃষ্ণ যেন সকলের ঘরে ফিরে আসেন এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
মন্মথপুরের এই অভিনব জন্মাষ্টমী ও নন্দোৎসবকে ঘিরে এলাকায় কার্যত এক নতুন আধ্যাত্মিক জাগরণের পরিবেশ তৈরি হয়।
PIC SANTANU DOLUI
MOBILE NO --7499910422
Comments
Post a Comment