আশায়েঁইন ২০২৬: অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কার্নিভালে এক মঞ্চে ৮০০ শিশুকলকাতা,
কলকাতায় রবিবার অনুষ্ঠিত হলো অন্তর্ভুক্তি ও সহনশীলতার এক বৃহৎ উৎসব। শহরের ৪০টি স্কুল ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ বিশেষভাবে সক্ষম শিশু অংশ নেয় ‘আশায়েঁইন – রোশনি উমেদোঁ কি’-র দ্বাদশ বর্ষের প্যারালিম্পিক ক্রীড়া কার্নিভালে।
লায়ন্স ক্লাব অব ক্যালকাটা (ডিস্ট্রিক্ট ৩২২বি১)-এর উদ্যোগে এবং রাউন্ড টেবিল ইন্ডিয়া (আরটি ১১৩) ও লেডিজ সার্কল ইন্ডিয়া (এলসি ১৩২)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই দিনভর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম গ্রাউন্ডে। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল খেলাধুলার মাধ্যমে অংশগ্রহণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করা।
কার্নিভালে ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার দৌড়, বল ছোড়া এবং শটপুট-সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয় শিশুরা। প্রতিযোগিতাগুলি সোদপুর রেফারি অ্যাসোসিয়েশন (এসআরএ)-এর প্রশিক্ষিত আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বর্ষীয়ান পুলিশ আধিকারিক ও বিশিষ্ট অতিথি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং, আইপিএস, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, কলকাতা পুলিশ এবং রূপেশ কুমার, আইপিএস, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সি এ পবন কুমার পাতোদিয়া, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, স্পেশাল অলিম্পিক্স ভারত, যিনি অংশগ্রহণকারী শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন করেন।
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মনোজ আগরওয়াল, সেক্রেটারি এবং শৈলেন্দ্র তিওয়ারি, ট্রেজারার, লায়ন্স ক্লাব অব ক্যালকাটা; পাশাপাশি ছিলেন হর্ষ করনানি, চেয়ারম্যান, আরটি ১১৩ এবং অনুরাগ মিত্তাল, এরিয়া চেয়ারম্যান (এরিয়া ৪)। তাঁরা সকলেই শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং উদ্যোগটির অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবনাকে সাধুবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একটি আনুষ্ঠানিক মার্চ পাস্টের মাধ্যমে, যার পর পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দিনটির কর্মসূচির সূচনা করা হয়। ক্রীড়া ইভেন্টের পাশাপাশি ছিল একটি আলাদা ফান কার্নিভাল জ়োন, যেখানে জাদুকর, জাগলার ও বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ শিল্পীর উপস্থিতিতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা সারাদিন ধরে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিলেন।
প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিশুকে সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার, ইভেন্ট টি-শার্ট, জ্যাকেট, ক্যাপ এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়, যা প্রতিযোগিতার চেয়ে অংশগ্রহণ ও মর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লায়ন কৃষ্ণ গোপাল কেজরিওয়াল, সভাপতি, লায়ন্স ক্লাব অব ক্যালকাটা বলেন, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের সাহস ও আত্মবিশ্বাসকে স্বীকৃতি দেওয়া।”
লায়ন প্রশান্ত জৈসওয়াল, চেয়ারম্যান, আশায়েঁইন ২০২৬, এই কর্মসূচি সফল করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজের নানা অংশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
দ্বাদশ বর্ষে পা রাখা আশায়েঁইন আজ লায়ন্স ক্লাব অব ক্যালকাটার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যা শহরের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ধারাবাহিক প্রতিফলন।
উপস্থিত বিশিষ্টজন
অনুষ্ঠানে লায়ন্স সংগঠনের একাধিক বর্ষীয়ান সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
পিডিজি লায়ন আনন্দ চোপড়া, পিডিজি লায়ন বাবুলাল বাঙ্কা, পিডিজি লায়ন কেদারনাথ গুপ্ত, ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি লায়ন নীতু বাইদ, ডিস্ট্রিক্ট ট্রেজারার লায়ন দাক্ষা শাহ, সহ বিভিন্ন লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও সদস্যরা।
Comments
Post a Comment