ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে স্কটিশ চার্চ কলেজে নবরূপে উদ্বোধন হল ‘ওগিলভি বিল্ডিং’


 দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কটিশ চার্চ কলেজের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সংযোজিত হল। 

১৯৬ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই শুক্রবার  আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল পুনর্নির্মিত “ওগিলভি বিল্ডিং”-এর। একসময়কার ঐতিহাসিক ওগিলভি হোস্টেলকে আধুনিক শিক্ষার চাহিদা অনুযায়ী নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে।
চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার মডারেটর ও কলকাতার বিশপ তথা কলেজ গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট পরিতোষ ক্যানিং এই নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। 
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মধুমঞ্জরী মন্ডল বলেন, আপাতত এই নতুন ভবনে স্থানান্তরিত করা হবে বি.কম এবং বি.বি.এ বিভাগের স্নাতক স্তরের ক্লাস। বর্তমানে কলেজের দুটি পৃথক ভবনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং শিক্ষক-শিক্ষণ বিভাগের পাঠক্রম পরিচালিত হয়। ক্রমবর্ধমান পাঠ্যক্রম ও স্থানাভাবের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি ভবনের পুনর্নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্য রক্ষার উপর। সংরক্ষণ করা হয়েছে ভবনের পুরোনো পাথরের সিঁড়ি, কেন্দ্রীয় ত্রিকোণাকার পেডিমেন্ট এবং কারুকার্যময় পাথরের খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার। ফলে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে এই নতুন ভবনে।
ওগিলভি বিল্ডিংয়ের নামকরণ করা হয়েছে জেনারেল অ্যাসেম্বলি’স ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ জেমস ওগিলভির স্মৃতিতে। ১৮৪৫ থেকে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ছিলেন। ভারতে দীর্ঘ ২৬ বছরের প্রবাসজীবনে শিক্ষার প্রসারে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। কলেজের ইতিহাস অনুযায়ী, বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯১৪ সালে এবং ১৯১৫ সালের ৫ জুলাই এক সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে ওগিলভি হোস্টেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
নতুন রূপে গড়ে ওঠা ওগিলভি বিল্ডিংয়ে রয়েছে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ জন ছাত্রছাত্রী বসতে পারবেন। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে ইন্টারেক্টিভ স্মার্ট বোর্ড সম্বলিত ৮০ আসনের সেমিনার রুম, ইনকিউবেশন সেন্টার, কনফারেন্স রুম, বৃহৎ কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, কমন রুম, ক্যান্টিন, অতিথি কক্ষ এবং সবুজ ঘাসে মোড়া মনোরম উদ্যান।
এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা স্কটিশ চার্চ কলেজের প্রাক্তনীরা।

 তাঁদের অনুদান ও সহযোগিতায় পুনর্নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মধুমঞ্জরী মন্ডল বলেন, “ওগিলভি হোস্টেলের যাত্রা শুরু ১৯১৫ সালে। আমাদের পূর্বসূরীরা যে ঐতিহ্যমণ্ডিত কলেজ প্রাঙ্গণ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তাকে শুধু সংরক্ষণ করাই নয়, শিক্ষার প্রসারে যথাযথভাবে ব্যবহার করাও আমাদের দায়িত্ব। ইউজিসি প্রবর্তিত নতুন শিক্ষানীতি (NEP)-র ফলে বহু নতুন বিষয় পড়ানোর সুযোগ এসেছে। আমরা চাই সেই সুযোগ আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে।”
তিনি আরও বলেন, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কলেজের শিক্ষক, কর্মী, প্রাক্তনী সকলের সহযোগিতা ও অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান ব্যক্তিত্ব যে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী, সেই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষা করে আগামী প্রজন্মের জন্য আধুনিক শিক্ষার বিস্তৃত পরিসর তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক শিক্ষার উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে “ওগিলভি বিল্ডিং” ভবিষ্যতে স্কটিশ চার্চ কলেজের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।
PIC   SANTANU DOLUI 
MOBILE  NO  --7499910422

Comments

Popular posts from this blog

Mariyam Ayesha – Fashion ModelThe Role of Fashion Models in the Modern Fashion Industry

পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে ইনকাম ট্যাক্স স্পোর্টস এন্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব,পশ্চিমবঙ্গ

পুষ্পেন্দু সেন স্মারক রক্তদান শিবির